প্রকাশিত: ১২/০৮/২০১৯ ২:৩৪ পিএম , আপডেট: ১২/০৮/২০১৯ ২:৪০ পিএম

আজ (১২ আগস্ট-২০১৯) পবিত্র ঈদুল আযহা,মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম আনন্দ উৎসব।এদিন সার্মথ্যবান মুসলমানরা তাদের সাধ্যের মধ্যে পশু কুরবানির মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি হাসিল করেন।ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বছরের নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে এই কুরবানী দিতে হয়।আমাদের সমাজের অধিকাংশ সামর্থ্যহীন (আর্থিক) মানুষ রয়েছে যাদের উপর কুরবানি করা ওয়াজিব হয়নি।কিন্ত যেসব সামর্থ্যবান মুসলিম কুরবানি দেন তাদেরই কর্তব্য তার প্রতিবেশী গরিবদের কুরবানির পশু বন্টন করে দেওয়া।শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কুরবানির মাংসকে সমান তিনভাগে ভাগ করে একভাগ পাবেন পাড়া প্রতিবেশী গরীব লোকজন আরেকভাগ পাবে আত্মীয় স্বজন আরেক ভাগ নিজের।গ্রামীন এলাকায় তথা বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা পাড়া প্রতিবেশীদের মাংস বন্টনের রীতি চালু রয়েছে।জন্মলগ্ন থেকে আমরা তা দেখে আসছি।আমাদের এলাকায় এই গুরু দায়িত্বটি পালন করে থাকেন “সমাজ” কমিটি।তারা প্রতিবছর কুরবানির মাংস সংগ্রহ করে গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করে থাকেন।সমাজে যতজন সামর্থ্যবান লোক কুরবানি দেন তাদের মাংসের তিনভাগের একভাগ ঐ সমাজ কমিটিকে দেওয়া যাতে তারা গরীবদের মাঝে সুষ্ঠু ভাবে বিলি বন্টন করে দিতে পারেন।সমাজ কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত মুরব্বিরা বেশ পরিশ্রম করে স্বেচ্ছায় কাজটি সম্পন্ন করেন।প্রতিবছর সমাজের সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা ধরেই অধিকাংশ সমাজ কমিটি মাংস বিলি বন্টন করে থাকেন।এতে যেমন গরীব সামর্থ্যহীন লোকরা কিছু মাংস পায় তেমনি ঐ সমাজের যারা কুরবানি দিয়েছেন তাদের অনেকেই সমপরিমাণ মাংস পেয়ে থাকেন।আমার আপত্তি ঠিক এখানেই।বিষয়টি একটা উদাহরণ দিয়ে বললে মনে হয় সহজে অনুধাবন করা যাবে।মনে করি জসিম ভাই এবছর একটা গরু কুরবানি দিয়েছেন।তার একতৃতীয়াংশ মাংস তিনি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পাড়া প্রতিবেশীদের বিতরণের জন্য সমাজ কমিটিকে দিয়ে দিয়েছেন। একতৃতীয়াংশ তিনি নিজের আত্মীয় স্বজনদের বিরতণ করছেন।বাকি একতৃতীয়াংশ তিনি নিজের পরিবার পরিজনের জন্য রেখেছেন।কুরবানির দিন বিকাল বেলা আবার তার জন্য “সমাজ” কমিটি কিছু মাংস পাঠাল।কোত্থেকে আসল এই মাংস?যে মাংস উনি সকালবেলা সমাজ কমিটিকে দিয়ে আসছিলেন ঐ মাংস থেকেই তার জন্যও একাংশ পাঠানো হল!তাতে আমার আপত্তি কেন?আমার আপত্তি এই জন্যই কারণ জসিম ভাইয়ের মত যারা কুরবানি দিতে পেরেছেন তাদের জন্য এই সোয়া সের মাংস যতটা না দরকারী তারচেয়ে সহস্রগুন বেশি দরকারী আমাদের সেই গরীব প্রতিবেশীদের ভাইদের জন্য।যদি সামর্থ্যবানদের ঐ অংশটুকুও গরীবদেরকে বিতরণ করা যায় তাহলে তারা সোয়া সের এর জায়গায় নিশ্চয়ই দ্বিগুণ বেশি মাংস পেত।তাদের ঈদ আনন্দও দ্বিগুণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।আবার কোন কোন সমাজে দেখা যায় সমাজে গরীব মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি অথচ কুরাবানি দাতার সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম সেক্ষেত্রে সমাজ কমিটি ঐ গরীবদের জন্য আলাদা পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা করতে পারে।জবাইকৃত পশুর মাংস সদস্যদের মাঝে সমভাবে বিতরণ করা হবে।প্রতিবছর সমাজে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য ৩০০/৫০০ টাকা ধার্য্য করা যেতে পারে এবং সেই টাকায় সমাজের সামর্থ্যহীন সদস্যদের জন্য মাংসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।তাছাড়া সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্টানও এই সমাজিক কার্যে অংশ নিতে পারেন।রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই লক্ষ বার হাজার পরিবারকে কুরবানির মাংস দেওয়া গেলে আমরা কেন আমাদের সমাজের তিনশ পরিবারকে বছরে একটি বার ৪/৫ কেজি মাংস দিতে পারবনা।সমাজ কমিটি অনেক মূল্যবান কাজ করে সমাজিক বন্ধকে অটুট রাখে তা সর্বজন স্বীকৃত এখন কেবল দরকার এই সামাজিক প্রতিষ্টাকে কিভাবে আরো মঙ্গলজনক করা যায় তা নিয়ে একটু চিন্তা করা।যুবকরাও এই সমাজ কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসাবে তাদের বলিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি সদস্যকেই সক্রিয় ভুমিকা রাখতে হবে। কুরবানির পশু জবাইয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও নিতে হবে এই সমাজকেই। এই দায়িত্ব কেবল প্রবীন মুরব্বিদের নয় বরং আমার আপনার সবার।আসুন সকলে মিলে আমরা আমাদের সমাজের মঙ্গলের কথা ভাবি।তাহলেই নিশ্চিত হবে কুরবানির শিক্ষা;ঈদের প্রকৃত আনন্দ। কেউ খাবে কেউ খাবেনা;তা হবেনা তা হবেনা।

লেখকঃ
জিয়াউর রহমান মুকুল,
মানবিক ও উন্নয়ন কর্মী,
শেড,কক্সবাজার।
ইমেলঃ ziaur@shedbd.org

পাঠকের মতামত

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

“বিগত প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নই হোক উখিয়া-টেকনাফের আগামী”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, ...

ভুল হোক ফুল

আমাদের এই ছোট্ট জীবনটার পুরোটাই হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্র।যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন আমরা নতুন বিষয় ...
Single Page Footer